মেনু নির্বাচন করুন
গল্প নয় সত্যি

গল্প নয় সত্যি

’’ডোলপুর-মুক্তেশ্বরী পাবসসের ক্ষুদ্রঋণে রোজিনা বেগমের দর্জি দোকান’’

 

সংক্ষিপ্ত অবতারণা (Discribe the Crisis and the Achievement in Short)ঃ মোছাঃ রোজিনা বেগম, স্বামী-মোঃ ইকরামুল হক, গ্রামঃ ঝাউদিয়া, ডাকঃ চান্দুটিয়া, সদর, যশোর। তিনি বিগত ২০০৮ সালের প্রথম দিকে নিজের সাংসারিক দূঃখ কষ্টের মধ্যে চিন্তা করেন, এলাকায় এলজিইডি’র সমিতির সদস্য হলে অনেক সহায়তা পাওয়া যেতে পারে ভেবে পাবসস এর সেক্রেটারী আবু সাইদ সাহেবের সহিত দেখা করেন। পরবর্তীতে স্বামীর সহিত পাবসস অফিসের সভায় যোগদান করে সমিতির নিয়মনীতি মেনে রোজিনা বেগম ডোলপুর-মুক্তেশ্বরী খাল পাবসস এর সদস্য হন ।

 

অতীত দূর্দশা/সমস্যার বর্ণনা (Discribe the Crisis/Problem in Depth)ঃ অতীত দূর্দশার কথা জানতে চাইলে রোজিনা বেগম বলেন, ডোলপুর-মুক্তেশ্বরী খাল পাবসস এর সদস্য হওয়ার পর্বে তিনি ছেলে-মেয়েদের নিয়ে খুব কষ্টের মধ্যে থাকতেন। তার স্বামী একজন কৃষক, পরের জমি বর্গাচাষ করে যে ফসল পেতো তাতে কোন রকম দিন চলত। অভাবের সংসারে সব সময় অশান্তি থাকত। ছেলে-মেয়ের ঠিকমত লেখাপড়া এবং চিকিৎসা করাতে পারতেন না ।

 

সুযোগ প্রাপ্তি (Scope Arrived)ঃ  সুযোগ প্রাপ্তির উপর প্রশ্ন করা হলে, তিনি বলেন, সমিতির সদস্য হওয়ার পর এ পর্যন্ত সমিতি থেকে একাধিকবার ঋণ নিয়েছেন। তিনি নিজে পুঁজি খাটিয়ে সংসারে কিছু টাকাও দিয়েছেন। ফলে স্বামী-স্ত্রীর মিলিত রোজগারের টাকায় এখন সংসার ভাল চলছে এবং শান্তিতে আছেন। বর্তমানে রোজিনা বেগম সঞ্চয়ের টাকা এবং ঋণের টাকা দিয়ে একটি সেলাই মেশিন এবং কিছু কাপড় কিনে নিজের বাড়িতে দর্জির কাজ করছেন ।

 

কর্মকান্ড গ্রহণ (Activites Taken)ঃ  রোজিনা বেগম জানান, তিনি নিয়মিত সমিতির বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণ করেন এবং সমিতি থেকে প্রথমে ঋণ নিয়ে এবং নিজের গচ্ছিত কিছু টাকা দিয়ে একটি সেলাই মেশিন কেনেন। বর্তমানে মোটামুটি সফলতা অর্জনের মুখ দেখছেন ।

 

প্রাপ্ত সুফল (Results Achieved)ঃ প্রাপ্ত সুফল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সমিতি থেকে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণ করে সেলাই মেশিনের কাজ করে সংসারের কিছু খরচ চালিয়েও সমিতির কিস্তি এবং সঞ্চয়ের টাকা আয় থেকে থেকে পরিশোধ করেন। বর্তমানে তাদের পুঁজি দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

 

প্রভাব ও প্রত্যাশা (Impact and Aspiration)ঃ রোজিনা বেগম বলেন, তিনি এলজিইডি’র বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা কাজে লাগিয়ে এবং সমিতির সভায় সবকিছু জেনেশুনে নিজের দক্ষতা অর্জন করেছি। বর্তমানে তিনি শুধু সাংসারিক স্বচ্ছলতাই নয় সামাজিকভাবেও মূল্যায়িত হয়েছেন বলে দাবি করেন । তিনি আশা করেন, আগামীকে আরো আয়বৃদ্ধিমুলক ব্যবসার মাধ্যমে এলাকার দারিদ্র মা-বোনদের সম্পৃক্ত করতে পারবেন এবং অত্র এলাকায় দারিদ্রহ্রাসে সহায়তা দিতে পারবেন ।

 

উপসংহার (Conslusion)ঃ রোজিনা বেগম মনে করেন, অত্র এলাকায় অধিকাংশ লোক দরিদ্রসীমার নিচে বসবাস করছে। তার মধ্যে অধিকাংশ নারী। এই বিশাল গোষ্টিকে পিছনে রেখে এলাকার লোকজনদের স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব নয় । বর্তমানে এলজিইডি আমাদের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সহায়তা দিচ্ছে, এই সহায়তার হার আর একটু বৃদ্ধি করলে আমরা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারবো । পরিশেষে তিনি তার সাংসারিক স্বচ্ছলতার জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ।

ছবি/সংযুক্তি


ক্রম


Share with :

Facebook Twitter